খ্রিষ্টিয় উপাসনার গান- সেবক সঙ্গীত (Sebok Sangeet)

আয়না প্রেমের খেলা খেলি- Ayna Premer Khela Kheli

আয়না প্রেমের খেলা খেলি
মিলি সেবকদের দলে
সে খেলা খেলিলে
জীবনের মোক্ষ ফল ফলে। --- ঐ

১। যে খেলায় নাই হিংসা-দ্বেষ
যে খেলায় নাই কলুষিত
হবে মহাভাবের সমাবেশ
ভাসি নয়ন জলে। ঐ

২। হবে প্রেমের কোলাকুলি
আত্মিক সঙ্কীর্তনে মিলি
এসো জয় যীশু জয় বলি
মনরে আপনা পর ভুলি। ঐ

৩। গাহি প্রভুর ধন্যবাদ গান
হৃদয় বীনায় মিশায়ে তান
সঁপে দেই আজ মন প্রাণ
প্রভুর রাঙ্গা চরণ তলে। ঐ

৪। মিছা মায়ায় যত্ন হলে গেল রে দিন মিছা বয়ে
কি হবে অসারে চিত্ত নিয়ে
জনম গেল বিফলে। ঐ

৫। পাগল একি হলো ভবের খেলা বুঝি
সাঙ্গ হলো শেষের খেলা
জয় যীশু বল দুই বাহু তুলে।

আমার জীবন প্রভু, সঁপি তব পায়- Amer Jibon Provu

আমার জীবন প্রভু, সঁপি তব পায়
আমি তোমারি ধন তোমায় দিয়া, জুড়াই আমার হৃদয়।

১। লহ মম অভিমান, লহ মম প্রিয় মান গো-
তুমি লহ মম দিব্য জ্ঞান, প্রভু তোমারি সেবায়।

২। লহ মম উচ্চ পদ, লহ মম জাতি মদ গো
প্রভু লহ মম হস্তপদ, আমার চক্ষু কর্ণদ্বয়।

৩। লহ মম ধন জন, লহ মম পরিজন গো
তুমি লহ মম প্রাণধন, প্রভু বিনতি তোমায়।

৪। লহ মম ভালবাসা, লহ মম উচ্চ আশা গো
তুমি লহ সুখের লালসা, আশা যত এ ধরায়।

৫। আমার বলতে যাহা আছে, সকল দিলাম তোমার কাছে
পাগল প্রসাদের এই বাঞ্ছা আছে, রেখ শ্রীচরণ তলায়।

আমার এই বাসনা, চরণ সাধনা করিব যতনে- Amer Ei Basona

আমার এই বাসনা, চরণ সাধনা করিব যতনে
আমি দিবা নিশি ধ্যানে বসিয়ে, চরণ পূজিব যতনে।

১। নয়ন জলে ধুয়ে চরন সাজাইব মনের মতন
বসে সুগন্ধি চন্দনে আমি ঐ চরণে সঁপে দিলাম, আমার যা আছে ভূবনে।

২। কি কব তাঁর দয়ার কথা কতই ভাবে ঘুঁচায় ব্যাথা (আমার) সেই রূপ স্মরণে
ও তাঁর প্রেম কাহিনী দয়াল দিন যামিনী রে আমি ভুলিব কেমনে।

৩। ঐ চরণে শান্তি নদী প্রভু হিতেছে নিরবধি আমি শুনেছি শ্রবণে
আমি সেই নদীতে দয়াল  ডুবে রব রে, সদা জীবনে মরণে।

৪। সে জন ভবের জীবন বৃক্ষ, প্রভু তাঁহার পাতায় হয় আরোগ্য ব্যাধি হলে সাধুজনে
আমি লতা হয়ে জড়িয়ে রব রে, সুফল ফলিবে জীবনে।

৫। দুঃখে কিম্বা সুখে রাখ প্রভু কাছে কিম্বা তুমি দূরে থাক এই বাসনা মনে
তুমি যেভাবে সেইভাবে রাখ রে, চরণ পাই যেন অন্তিমে।

আমার জীবন সন্ধ্যা হয়ে এল খুলতে হল নাও- Amer Jibon Sondha Hoea Elo

আমার জীবন সন্ধ্যা হয়ে এল খুলতে হল নাও
তোমার প্রেম ডোরে বেঁধে মোরে
যথা ইচ্ছা তথা নিয়ে যাও।

১। ভব নদীর তুফান ভারি তাইতে আমি ভয়ে মরি ওহে দয়াময়
তুমি নিজগুণে নিও পারে, চরণ খানি আমায় দাও।

২। আমার একটু জীর্ণ তরী, পাপভারের বোঝায় ভারী কি করি উপায়
আমি বিপদে পড়িয়া ডাকি দেখা তুমি আমাদয় দাও।

৩। তাই তোমার নাম ভরসা করি অকূলে ভাসাইলাম তরী ওহে দয়ায়
তুমি অনুগ্রহ করে মোরে পারে এবার নিয়ে যাও।

আমার ভগ্ন হিয়ার মগ্ন ব্যাথা গো- Amer Vogno Hier

আমার ভগ্ন হিয়ার মগ্ন ব্যাথা গো
(তুমি) দূর করে দাও হে দয়াল
তোমার মধুর শান্তি প্রেম-প্রীতিতে
আজি শান্ত কর এ হৃদয়।

১। আমার জীবন পথ যে অন্ধকারময় গো
আমি কোন্‌ পথে যাই, কার কাছে কই
দয়াল যীশু গো
তোমার জীবন জ্যোতির আলো নিয়ে গো
আমার পথ করে দাও আলোময়।

২। আমার ভগ্নতরী পাপে ভারী গো
আমি বইতে নারি, ভয়ে মরি দয়াল যীশু গো
তোমার অসীম শক্তি প্রেম বলে গো
আমার হাল ধরে নিয়ে দাও অভয়।

৩। আমায় আর কত দিন ভবের মাঝে গো
তোমার কোন বা কাজে, কেমন সাজে
রাখবে দয়াল গো
দিও পদছায়া, ক্রুশের মায়া গো
আমার এইভাবে যেন কাটে কাল।

আমার জীবন পথের আলো যীশু- Amer Jibon Pother Alo

আমার জীবন পথের আলো যীশু, সাথে সাথে চল।
গহন বনে একলা যেতে, পথ যে না পাই কোন মতে
আমার জীবন পথ দর্শক যীশু, পথ দেখিয়ে চল।

১। সাথীরা সব যায় যে ফেলে আঁধার ঘিরে এল
ব্যথার ব্যথী যীশু এস, নইলে এ প্রাণ গেল
আমার জীবন পথের সম্বল যীশু; হাত ধরে নিয়ে চল।

২। জীবন নদীর তুফান ঝড়ে হাল ভেঙ্গে যায় পাল যে ছেঁড়ে
যীশু মাঝি বস হালে, নইলে তরী ডুবলো
আমার জীবন তরীর মাঝি যীশু হাল ধরে নিয়ে চল।

আসবেন প্রভু মেঘরথে- Asben Provu Megho Rothe

আসবেন প্রভু মেঘরথে
আবার ফিরে ধরাতলে।
মহাতূরি ধ্বনিসহ
পাঠাবেন দূত দলে দলে।

১। রবি শশী গ্রহ তারা
নভে হবে জ্যোতি হারা
বিলাপকারী মানবেরা
দেখবে তখন কৌতুহলে।

২। হানাহানি হিংসা দ্বেষে
ভরে যাবে ভূবন খানি
মহামারী ভূকম্পনে
ধ্বংস হবে জগৎ জানি।

৩। পাপী তাপী ত্রানকামী
হওগো প্রভুর অনুগামী
তারই আগমনের তরে
জেগে থাক প্রতিপলে।

আমার মন পাগেলা, বুঝ মানেনা- Amer Mon Pagla

আমার মন পাগেলা, বুঝ মানেনা, ঝাঁপ দিয়েছি রূপ সাগরে
পেয়ে মনের মানুষ হয়ে বেহুঁশ (আমি) আছি বাঁধা তাঁর প্রেমডোরে।

১। দয়াল যীশুর রূপের আভায় মোরে কখন ডুবায় কখন ভাসায়
আমার কখন হাসায় কখন কাঁদায়, কখন ভাসায় আঁখি নীরে।

২। চেয়ে থাকি মুখপানে প্রভু যীশুর চরণ ধ্যান
আমার জুড়াই জ্বালা, জ্বলে প্রাণে কভু চরণ বুকে ধরে।

৩। সঁপে দিলাম মন প্রাণ (প্রভুর) যুগল পদে প্রাণধন
যেন ঐ রূপেতে চিরদিন (আমি) মজে থাকি এ সংসারে।

৪। ঐ রূপেতে মন মজিল, দীনহীনে পাগল হল
একবার প্রেমানন্দে যীশু বল (তোমার) ভয় কি আছে এ সংসারে।

আমার এই যাতনা প্রাণে সয়না- Amer Ei Jatona Prane Soina

আমার এই যাতনা প্রাণে সয়না
প্রভু সহিব কেমনেেএখন ত্রেতার জ্বালায় জ্বলে মরলাম রে
জ্বলছি পাপের আগুনে।

১। স্বার্থের লোভে আমার জীবন
মিথ্যা ফাঁকি আর প্রলোভন আছি বিলাস ভবনে
আমি রঙ্গরস আর বিলাসিতায় রে,
রয়েছি তোমা বিহনে রে দয়াল তোমা বিহনে।

২। ভুলিয়াছি সংসারের মায়ায়
ত্যাগ পত্র দিয়াছি তোমায় আমার এ ভ্রষ্ট জীবনে
হয়ে স্বামীহারা পথ ছাড়া রে
ঘরি তাই অশ্রু নয়নে রে ভাসি অশ্রু নয়নে।

৩। তুমি বিশ্বের আশা ভূমি
জঘণ্য পাতকী আমি আদি এ ভূবনে
দয়াল, আশাহীনের আশা পুরাও রে
আছে যা বাসনা পরাণে।

৪। ভিখারী আজ তোমার দুয়ারে
অধম যোগেশ বলে মিনতি করে সজল নয়নে
প্রভু ভিখারীর এই বাঞ্ছা পুরাও রে
আশ্রয় দিয়ে শ্রীচরণে রে দয়াল, আশ্রয় দিয়ে শ্রীচরণে।

আমার সোনার অঙ্গ মলিন হলরে ধরে যায় না রাখা- Amer Soner Ango Molin Holore

আমার সোনার অঙ্গ মলিন হলরে ধরে যায় না রাখা
নাইরে রূপ লাবণ্যের রেখা
ধরে যায় না রাখা।

১। ভেবে ছিলাম এমনিভাবে আমার
সারা জনম কেটে যাবে
সাধের জোয়ার রবে।
এখন দেখি ভাটির টানে মেরুদণ্ড বাঁধন
ধরে যায় না রাখা।

২। কত যতন করেছিলাম কত সুগন্ধি এই অঙ্গে
মাখালাম মধুর খাবার খেলাম
কাল চুলে তৈরী কাটা এখন সবই দেখি সাদা
ধরে যায়না রাখা।

৩। যদি এক রূপসী তাকে পরাণ দিয়ে ভালবাসি
সংসার পেতে বসি
সংসারেতে সুখ হলো না
দয়াল যীশু নাই দেখা
ধরে যায় না রাখা।

আমার মনের ব্যথা কেউ জানে না- Amer Moner Batha Kau Janena

আমার মনের ব্যথা কেউ জানে না
ফল ধরে না সোনার গাছে।
দয়াল যীশু বিনে সুফল হয় না,
এ জীবনে সকল মিছে।

১। ফলের আশায় কত লোকে, গাছের দিকে চেয়ে থাকে
গাছে ফল না দেখে মনের দুঃখে
মলিন মুখে যায় গো পিছে।

২। পত্র-পুষ্প বড়ই শোভা, আড়ম্বরে মনোলোভা
আরে হিংসা নিন্দা ছাড়ায় আভা
অংকারের বাও লেগেছে।

৩। গাছে যদি সুফল হইত ক্ষুধিত জনের প্রাণ জুড়াইত
এসে কত পথিক বসে রইত
দিবানিশি গাছের কাছে।

৪। বলে গেছেন যাবার কালে, মালিক একদিন আসবে মূলে
গাছে ফল না পেলে ক্ষুধার কালে
বলবে কুঠার লাগান আছে।

৫। তুমি লতা, আমি শাখা রেখ নাথ, তোমার গাঁথা
যেন সুফল পেয়ে গহত্রাতার
মনে ব্যাথা যায় গো ঘুঁচে।

আনন্দ গান গাব আর তোমার নামের জয়- Anaondogan gabo ar tomer namer joy

আনন্দ গান গাব আর তোমার নামের জয়
ওহে পিতা দয়াময় গো
গাব মোরা দলে দলে, নেচে নেচে তালে তালে, ঘুরে জগৎময়
এই ভূমণ্ডল পূর্ণ হবে তোমার প্রশংসায় গো পিতা।

১। তোমার মত কেহ নাই আর স্বর্গ-মর্ত মাঝে
সারা সৃষ্টি ব্যাপিয়া তোমার মহিমা বিরাজে
তুমি কেবল তোমার মুখের বাক্যে, স্বর্গ-মর্ত অন্তরীক্ষে
সৃষ্টি করলে হায়।
পিতা আব্রাহাম ধন্য হল তোমার করুণায়, গো পিতা।

২। মোদের পিতৃকূল বিশদ দেশে দুঃখে পড়ে কাঁদে
ফেরৌণ চক্রান্ত করে তাদের ফেলেছিল ফাঁদে
তুমি মোশিকে পাঠাইয়া দিলে, বাঁচাতে ইস্রায়েল কূলে
সেই দুঃখের সময়।
শেষে ইস্রায়েল দুগ্ধ-মধু-প্রবাহী দেশ পায় গো মধুর।

৩। দাসত্বে আছি মোরা পরের অধীন হয়ে
মোরা সুকের সুদিন আনব আবার তোমার নামটি গেয়ে,
তুমি পাঠাবে ত্রাণকর্তা তোমার, এই কনান দেশ হবে আবার
সুখেরি আলয়,
যখন এই দেশে হবেন এসে মশীহ উদয় গো হবেন।     

আনন্দে বন্দি দীনবন্ধু, তোমার রাঙ্গা পায়- Anonda Bondi Dino Bondhu

আনন্দে বন্দি দীনবন্ধু, তোমার রাঙ্গা পায়
আমি গা’ব তোমার ঐ যীশু নাম আমার দেখে যাবৎ জীবন রয়।

১। দিয়ে দেখা দুঃখের দুর্দিনে, তুমি করলে উদ্ধার এ অধীনে, আপন গুণে;
তুলে বসালে, এই কাঙ্গালে তোমার চেরণে।
(আমি) ভুলিব না এই করুণা কভু, ভুলিব কেমনে হায়!

২। এই ভিক্ষা আজ মাগে দিনহীন, তোমার ঐ পাদপদ্মে চিত্ত যেন নিত্য থাকে লীন
করি আকিঞ্চন, ওহে ত্রাণঘন, মনে নিশিদিন।
(আমার) ফুরায়ে যা’ক সকল আশা যেন এই আনন্দ না ফুরায়।

আয় চলে আয়- Aye Chole Aye

আয় চলে আয়, দিন বয়ে যায়, যাবে যদি নিত্য ভবনে
সংসার অসার, কেন ভুলে আছ মায়া বন্ধনে?

১। বুঝে দেখ ভাই সকলি অনিত্য
যীশু খ্রীষ্ট স্বয়ং সনাতন সত্য
সেই নামে, অধমে, ভবে শান্তি পায় ইহ জীবনে।

২। ভীষণ মরণ সতত নিকটে
পদে পদে তোমায় ঘেরে হে সঙ্কেটে
বিপদে, আবাধে, পাপী নিরাপদ হয় চরণ স্মরণে।

৩। ধর ধর ভাই যীশু প্রাণকান্ত
নিরাপদ হবে জীবন অন্তে,
মরণ ভয়, নাই সেথায়, হবে নিত্য সুখে সুখী সেখানে।


আয় মন চল যাই সেই নিত্যানন্দ ধামে- Ai Mono Cholo Jai Sei Nittanondo Dhame

আয় মন চল যাই সেই নিত্যানন্দ ধামে
যথা শান্তি নদী উথলিছে সদা যীশুর নামে।
(আনন্দের আর সীমা নাই রে)

১। তথা মূর্তিমান ত্রাণকর্তা পিতা যার বামে
(নয়নে হেরিব সকলে)

২। তাঁর প্রেক বিদ্ধ হস্ত পদ মোরা হেরিব গো প্রেমে
(প্রেম ধারা ফেলে নয়নে)

৩। সব দুঃখ-তাপ ভুলে গিয়ে মোরা থাকিব আরামে
(আনন্দের দিন কবে হবে রে)

৪। ঐ যে পাপের জ্বালা না রহিবে সে আনন্দ ধামে
(চির সুখে সুখী হবে গো)

৫। মোরা শমন ভয়ে ভীত নাহি হইব সেখানে
(শন ভয়ে দূরে যাবে গো)

৬। তথা সদানন্দে রব মোরা যীশুর গুণ গানে
(যীশু মোদের সঙ্গে থাকবেন গো)।

আনন্দে মাত সবে জয় যীশু জয় বলে- Anonde Mato Sobe Joy Jishu Joy Bole

আনন্দে মাত সবে জয় যীশু জয় বলে
যীশু নাম কর সঙ্কীর্তণ কর গুণগান দুই বাহুতুলে।

১। যার চরণ পায় না ধ্যানে, যোগী আর ঋষি মুণিগণে
সেই যীশু আপন গুণে এসে দেখা দিলেন পাপীজনে।

২। যাহার যা ছিল মনে তিনি করেছেন পূরণ
আনন্দে হইয়া মগন সব লুটাও তাঁর শ্রীচরণ তলে।

৩। এসেছে তার আশীর্বাদ মিটাতে সকলের সাধ
     দুঃখের রাত হয়েছে প্রভাত, এল শুভক্ষণ এই ভূমন্ডলে।

৪। যাব সবে দেশ বিদেশে মনের আনন্দে ভেসে
বলবো সবার সকালে তোরা যীশুর কাছে আয় সকলে।

আসিতেছেন ঈশ্বর নন্দন চড়ি মেঘরথে সদলে- Acitechen Issor Nondon Cori Megho

আসিতেছেন ঈশ্বর নন্দন চড়ি মেঘরথে সদলে
সবে প্রস্তুত হও, প্রস্তুত হও, প্রস্তুত হও তোমরা সকলে।

১। হবে ভীষণ তুরীর ধ্বনি, জেগে উঠবে সব মৃত প্রাণী
রূপান্তর হবে এ ধরণী শয়তান বন্ধিবে শৃঙ্খলে।

২। মহামারী যুদ্ধ হচ্ছে, দুর্ভিক্ষে লোক মারা যাচ্ছে
মহা ভূমিকম্প দেখা দিচ্ছে জ্যান্ত পাচ্ছে সকলে।

৩। উঠ উঠ, জেগে থাক, ঘুমাইবার আর সময় নাইকো
সবে এক দৃষ্টে চেয়ে থাক, বিশ্বাস বাহু তুলে।

৪। নির্বুদ্ধির মতন হয়ে, ধন সম্পত্তি টাকা পেয়ে
এখন রয়েছ মায়ায় ভুলে উত্তর দিবে কি বলে।

৫। যে জন ধর্মের ছদ্মবেশী জগতের সুখ অভিলাসী
সেও হবে নিশ্চয় দোষী, শ্রীযীশুর বিচারকালে।
৬। সুবুদ্ধির মত হয়ে, প্রার্থনায় থাক জাগিয়ে
যেন হৃদয়ের নাথ হৃদয়ে আসিয়ে প্রস্তুত দেখেন সকলে।

৭। বিশ্বস্ত যে দাস হইবে, পাঁচ তোরায় সে দশ করিবে
যীশুর অক্ষয় মুকুট মাথায় নিয়ে বসাবেন নিয়ে কোলে।
-অজ্ঞাত

আঁধার ধরণী তিমির বরণী রজনী নামিল দিবা দ্বিপ্রহরে- Adhar Dhorani Timir Boroni

আঁধার ধরণী তিমির বরণী রজনী নামিল দিবা দ্বিপ্রহরে
শত চক্ষু মেলি তারকা মন্ডলী রচিত চাহিয়া ক্রুশের উপরে।

১। ক্রুশে বিদ্ধ যীশু ঈশ্বর নন্দন অমূল্য জীবন দেন বিসর্জন
পাপের প্রায়শ্চিত্ত করিতে সাধন দিতে মুক্তি ধন পাপী নারী-নরে।

২। নামিছে নয়নে মৃত্যুর আঁধার, উঠিছে গগনে তার আর্ত স্বর
উদয় হও আসি পিতা দয়াধার অসময়ে তুমি ত্যাজনা আমারে।

৩। ভূকম্পনে ফাটে ভূদরের চূড়া থর থর কাঁপে বসুন্ধরা
বিদীর্ণ কবরে জেগে উঠে মরা বিপর্যস্ত সৃষ্টি যীশুর মৃত্যুরে।

একবার ডাক দে রে মন সেই গুণ নিধি- Ekber Dak De Re Mone

একবার ডাক দে রে মন সেই গুণ নিধি
আজ এই নিশি ভোরে
বদন ভরে ডাক দেখি তায় আজ, একবার ডাকরে হৃদয় ভরে।

১। হল যখন নিশি আঁধার, আমি হারালাম তা পেলাম না আর
আর হৃদয় রতন আমার;
ভোরের বেলায় দুঃস্বপনে আমি দেখেছিলাম তাঁরে।

২। একবার আঁধার কেটে গেছে, একবার ডাক দেখি সে কোথায় আছে
এই জগৎ মাঝে;
দয়া যদি করে সেজন, দেখা দিলে দিতে পারে।

৩। দেখা যদি না দেয় সেজন, ও তোর জীবন আর কি প্রয়োজন
মিছে সব আয়োজন;
একবার দেখা পেলে তাঁরে, জীবন সফল এ সংসারে।

৪। বদন ভরে ডাক দেখি তায়, একবার খুঁজে দেখ সে আছে কোথায়
আজ এই প্রভাত সময়;
কি জানি সে খুঁজে তোরে, আছে তোর হৃদয় মন্দিরে।

৫। স্বর্গের বৈভব ত্যাজ্য করি, ভবে এসেছেন এই ত্রাণ কাণ্ডারী
নরের দুখ হারী;
ঐ শুন তাঁর ঐ মধুর ধ্বনি কে ঐ ডাকিছে তোমারে।

৬। ডাক যারে হৃদয়ে তুমি তোমার অন্তরের সেই অন্তর্যামি
সেই জগৎ স্বামী;
তুমি যারে খুঁজে বেড়াও, সেজন খুঁজিছে তোমারে।

উদয় হও এই হৃদয় মাঝে- Udaoi How Ei Ridhoy

উদয় হও এই হৃদয় মাঝে, একবার ঐ রূপ দেখি নয়ন ভরে হে

১। এস ত্রাতার মূর্তি ধরে, তুমি বিদ্ধ আছ ক্রুশোপরে হে
তোমার মস্তকে, কন্টকে, রক্তধারা ঝরে হে।

২। শ্রীমুখ তোমার রক্তে মাখা, মুখে প্রহার চিহ্ন আছে আঁকা হে
মুখে বিনতি, অগতি, পাপীগণের তরে হে।

৩। দুই হাত তুমি বিস্তার করে, বুঝি ডাকিতেছে পাপী নরে হে
দুই হাত বাড়ায়ে, দাঁড়ায়ে, আছ ক্রুশোপরে হে।

৪। কোন পাষাণ্ড দয়া শূণ্য, তোমার বক্ষ করেছে বিদীর্ণ হে
ঝরে রক্ত-জল, অবিরল, দর দর ধারে হে।

৫। প্রেকে বিদ্ধ ঐ শ্রীচরণ, আমি হৃদ-মন্দিরে করব ধারণ হে
রব চিরকাল, হে দয়াল, ঐ চরণে পড়ে হে।

আহা কি মধুর তবে প্রেম পরশ- Ahah Ki Modhuro Tobo

আহা কি মধুর তব প্রেম পরশ
যীশু মম, প্রিয়তম, পরমেশ, হৃদয়েশ।

১। তোমারে কবিহ মনের কথা, তোমারে জানাব প্রাণেরি ব্যথা
যীশু মম, প্রিয়তম, পরমেশ, হৃদয়েশ।

২। কে আর নাশিবে শোক তাপ মম, শান্ত্বনা করিবে তোমারি সম
যীশু মম, প্রিয়তম, পরমেশ, হৃদয়েশ।

৩। বিপদে-আপদে তোমারেই ডাকি, সতত চরণে তাই পড়ে থাকি
যীশু মম, প্রিয়তম, পরমেশ, হৃদয়েশ।

৪। পার্থিব বান্ধব সবে যায় চলে, তুমি নাহি যাও কভু একাকী ফেলে
যীশু মম, প্রিয়তম, পরমেশ, হৃদয়েশ।

এমন মধু মাখা ঐ যীশুর নাম- Emon Modhu Mahka Oi Jishur

এমন মধু মাখা ঐ যীশুর নাম
ঐ নাম বল মহানন্দে নিশি ভোরে।
হবে রসনা পবিত্র, শুদ্ধ হবে চিত্ত
কেবল মাত্র ঐ নামের জোরে।

১। কতকাল তোর গেছে অমনি, এমনি সুখের দিন-যামিনী।
কত সুখের নিশি ভোর, কেটে গেছে তোর
আছিলি বিভোর ঘুমের ঘোরে।

২। গেছে সেদিন দিয়া ফাঁকি, বেশী দিন আর নািইরে বাকী
আছে বাকী যে কয় দিন, সেই দিনের একদিন
মুক্তির শুভ দিন এসেছেরে।

৩। জেগে উঠ যীশু নাম বলে, মনের দুয়ার দেওরে খুলে
দেখ, রাজ রাজেশ্বর, ঈশ্বর কুমার
দাঁড়ায়ে তোমার গৃহ দ্বারে।

৪। মুক্তি ধন সে নিয়া হাতে, আছে তোমার অপেক্ষাতে
মায়া ঘুমে অচেতন ছিলেরে যখন
ডেকেছে তখন বারে বারে।

৫। জেগে উঠ যীশু নাম বলে, মনের দুয়ার দেওরে খুলে
দেখ, রাজ রাজেশ্বর, ঈশ্বর কুমার
দাঁড়ায়ে তোমার গৃহ দ্বারে।

৪। মুক্তি ধন সে নিয়া হাতে, আছে তোমার অপেক্ষাতে
মায়া ঘুমে অচেতন ছিলিরে যখন
ডেকেছে তখন বারে বারে।

৫। নয়ন জলে ধোও তাঁর চরণ, হৃদয়ে লও করে বরণ
ও তোর হবে রে মোচন, এ ভবের বন্ধন
পাবি মুক্তির ধন যীশুর বরে।

এ অন্ধকার যাবে কেটে- প্রিয়নাথ বৈরাগী

এ অন্ধকার যাবে কেটে
নিশি আঁধার রবে না আর দিনের আলো উঠবে ফুটে।

১। সন্ধ্যা হলেই আসে আঁধার, ছায়ায় ঢাকে জগৎ সংসার
দিনের আলো আসে আবার, যখন সূর্য ওঠে।

২। পাখি জেগে গান গেয়ে যায়, বলো সবে “জয় যীশু জয়”
এ দেখ ঐ সূর্য উদয়, পূর্ব দিকে ঐ আকাশপটে।
৩। যে প্রহরী দিনে-রাতে, থাকে সদা তেমার সাথে
যে ভাবনা ভয় জাগে চিতে, বল খুলে তাঁর নিকটে।

৪। কেটে যাবে মনের আঁধার, আশঙ্কা ভয় রবে না আর
দেখবে তুমি কি শক্তি তাঁর, কি মহিমা ভবে ঘটে।